পরিবারের আবদারে – যা চাই, দারাজে পাই 

 

বড়বেলায় এসে এখন ছোটবেলাটাকে বেশি মিস করি। অফুরন্ত সময় ছিলো, অনেক অনেক স্বপ্ন ছিলো। বড়জনদের কাছে ছিলো এটা ওটা কেনার শতো আবদার। সব আবদার কখনো কখনো পূরণ হতো, আবার কখনো কখনো বেশি বেশি বায়না ধরবার জন্য শুনতে হতো অনেক বকাঝকা। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আবদারের জায়গা কমে, বাড়ে শুধু দ্বায়িত্ব।

এইতো সেদিনের গল্প, ছোটবোন বায়না ধরেছে তার কিছু গয়না আর স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট লাগবে। এইতো কিনবো, কিনছি করে সময় পাচ্ছি না। গত ১৫/২০ দিন আগে অনলাইন শপ দারাজে ঢুকে অনলাইনে পেমেন্ট করে অর্ডার করে দিলাম তার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ঠিকানায়। পরদিন ফোন করে সে কি খুশি তার। অথচ মফস্বলে থাকার কারণে ছোটবেলায় আমার পছন্দের প্রোডাক্টের জন্য আগে দোকানে গিয়ে কনফার্ম করে আসা লাগতো। ঢাকা থেকে সে প্রোডাক্ট মফস্বলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে এক সপ্তাহ। কখনো কখনো অপেক্ষা করা লাগতো ১ মাসেরও বেশি সময়।

৪/৫ দিন আগে মা ফোনে জানালো তার রান্নাঘরের জন্য একটা জিনিস লাগতো। আমার মা নিজেও চাকুরীজীবী। চাকুরির বাইরে সময় বের করে মা এর আগে সেইম জিনিস বাজার থেকে কিনেছিলো। কিনে বেশিদিন ব্যবহারও করতে পারে নি সে। আমার সহজ সরল মা- সেকেলে মানুষ, বুঝতে পারে নি দোকানদারের ছলাকলা। ভালো দামে মাকে গছিয়ে দিলো নকল কপি প্রোডাক্ট। এরপর মা আর সাহস পায় না এ জাতীয় কোনকিছু কেনার জন্য সহজে ভরসা করার। ২/১ দিন আগে সাহস করে অনেক দোকানে খুঁজেছে। অনেক খুঁজেও না পেয়ে হতাশ হয়ে বাসায় ফিরেছে। মা যখন ফোনে এই গল্প বলছিলেন, মায়ের এই কষ্ট আমাকেও ছুঁয়ে যাচ্ছিলো।

মায়ের জন্য জিনিসটা কেনা দরকার। আসছে বৃহস্পতিবার বাড়ি যাবো ১ দিনের জন্য। কিন্তু মায়ের জন্য যে জিনিস কিনবো সেটার জন্য অফিসের কাজের চাপে সময়ই বের করতে পারছি না। মায়ের গল্প লিখতে গিয়ে মনে হচ্ছে এক কাপ কফি হলে মন্দ হয় না। টেবিলের ড্রয়ার খুঁজে একটা কফি শ্যাশে প্যাকেট পেয়েছি। অফিসেও সময়ে অসময়ে কফি খেতে ইচ্ছে করে। কফিতে চুমুক দিতে দিতে দারাজ অ্যাপ থেকে অফিসের ঠিকানায় কিছু কফিও অর্ডার করে রাখলাম। মায়ের গল্পে ফিরি। মায়েরা কেমন যেন, তাদের কাছে সন্তানেরা সবসময়ই ছোট। সহজে তারা সন্তানদের ভরসা করতে পারে না।

মায়ের ভরসার গল্প আরেকদিন হবে, আজকে শুধু ব্যস্ততা আর ব্যস্ততার ভিড়ে পরিবারের খুচরো আবদার কেনার গল্প বলি। সপ্তাহে ৬দিন অফিস করে ১ দিন ছুটি পেলে আর কোথাও যেতে মন চায় না। প্রচণ্ড গরম, রোদ-বৃষ্টি হলে তো আরও ইচ্ছে করে না। দিনশেষে এখন বুঝতে পারি সময়ের দাম আছে। শুক্রবার ছুটির দিনে ঘণ্টার পর পর প্রচণ্ড জ্যাম ঠেলে, মার্কেটের ভিড় ঠেলে বাজার থেকে কিনে আনা যে কতোটা ঝামেলার কাজ, তা কেবল আমরা বাজার করতে গেলেই বুঝি। অনলাইনে অন্তত এই ঝামেলা নাই। তাছাড়া একইরকম পণ্য তুলনা করে কেনা যায়।  পণ্য সম্পর্কে অনলাইনে লিখে সার্চ করলেই সবকিছুই আমাদের চোখের সামনে চলে আসে।

আচ্ছা আপনাকে যদি আমি প্রশ্ন করি, অনলাইনে কেনাকাটা কি আপনার নিতান্তই শখ নাকি দৈনন্দিন রুটিনের অংশ? আপনি নিশ্চিত যে কোন একটা উত্তর দিবেন। বাইরের দেশের মতো আমাদের দেশে অনলাইনে বাজার বা শপিং শুরু হয়েছে কয়েক বছর হলো। মাকে কতোবার বলি মা তুমি তো চাইলে এসব তোমার ফোনেই অর্ডার করতে পারো। মা কেনো যেন এখনো অনলাইন বিষয়টাতে অভস্থ্য না। অথচ মায়ের কলিগ দারাজ থেকে এটা ওটা কিনলে মা আমাকে ফোনে সেসব গল্প শুনায়, নিত্য নতুন অফারের গল্প শুনায়, কম দামে মায়ের কলিগের এটা ওটা কেনার গল্প শুনায়।

আবার আমাদের বাসা থেকে অল্প দূরত্ব বলে মা- তার কলিগের প্রোডাক্ট রিসিভ করার জন্য দারাজ ডেলিভারি পয়েন্ট খুঁজে না পেলে, ভুলে গেলে সেটাও আমার থেকে ফোন করে জেনে নেয়। আমার মায়ের মতো অনেকেই এখনও ঘরে বসে শপিং করার ব্যাপারে অবগত না। তবে মায়ের কলিগের মতো যারা অনলাইনে কেনাকাটা করেন, তাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো শখের বসে করেন। আবার অনেকে হয়তো আমার মতো দৈনন্দিন চাহিদার কারণে করেন।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে দেশে অনেকগুলো অনলাইন কেনাকাটার ওয়েবসাইট থাকলেও দারাজে-র মতো বিশ্বস্ত অনলাইন শপ খুব কমই আছে। দারাজ সে বিশ্বাসকে সঙ্গী করে শহর,নগর-বন্দর থেকে শুরু করে দেশের সবখানে মানুষদের সেবা দিয়ে আসছে। ওহ বলা হয় নি, মায়ের প্রোডাক্টটাও পেয়ে গিয়েছি দারাজ মলে। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে এক্সপ্রেস ডেলিভারির সুবিধা থাকায় কাল দুপুরে হাতেও পেয়ে যাবো। শুধু কি তাই বিকাশ, রকেট, নগদ কিংবা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করার সুবিধা আবার ঠিকঠাক প্রোডাক্ট না পেলে সেটা সহজে ফেরতও দেয়া যায়। ফলে ঝামেলা কম, আমার মতো প্রাইভেট জব হোল্ডারদের অনেক সময়ও বাঁচে।

মায়েরা সন্তানের উপর ভরসা করতে পারুক আর নাই পারুক এতোসব সুবিধার ভিড়ে আমি নিশ্চিন্তে ভরসা করতে পারি দারাজের উপর। দ্রুতগতির সেবা, সেরা মানের পণ্য, সহজে হাতের মুঠোয়। তাই আমার পরিবারের আবদারে- যা চাই, দারাজে পাই।

Scroll to Top